ভাঙা-গড়ার খেলায় মত্ত নদীর ভাঙ্গনে গ্রাস রুটি-রুজি, ভিটে-মাটি
কাজকেরিয়ার অনলাইন নিউজ ডেস্ক: ভাঙনে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রাম। উদ্বিগ্ন সেখানকার মানুষ ও প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রের খবর, মানচিত্র থেকে গ্রাম মুছে যাচ্ছে । মুর্শিদাবাদ, মালদা ও নদীয়ায় এমন ঘটনা আকছার ঘটছে প্রতি বছরই। নদী ভাঙ্গনের জেরে বিপর্যস্ত গ্রামের মানুষ। গ্রাম বাংলার একাধিক জেলা নদী ভাঙ্গনের কবলে।
স্থানীয় সূত্রের আরও খবর,মালদার বৈষ্ণবনগরের কালিয়াচক ব্লকে নদী ভাঙ্গনে বিপর্যস্ত এলাকার মানুষ। সেখানকার গ্রামের পর গ্রাম, মৌজার পর মৌজা মুছে যাচ্ছে মানচিত্র থেকে। ভাঙা-গড়ার খেলায় মত্ত নদী। স্থানীয় মানুষের প্রতিদিনের জীবনে কালো মেঘ জমেছে। কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের অধীন বীরনগর ১ নম্বর পঞ্চায়েতে গঙ্গার ভাঙ্গনে চিনাবাজার, দুর্গারামটোলা ও ভীমাগ্রামের এখন অস্তিত্ব সঙ্কট।
প্রতিবছর ভাঙ্গনে গঙ্গায় তলিয়ে যায় কৃষি জমি, বসত-বাড়ি, স্কুল, মন্দির সহ অনেক কিছুই। সাধারণ মানুষ ভিটে-মাটি ও কৃষি-জমি হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। তাঁদের মুখগুলো দেখার জো নেই। অনেকে আবার দু -তিন বার ঠিকানা বদল করেছেন। ভিটে-মাটি টিকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছে শেষ সম্বলটুকুও।
বীরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের চিনাবাজার গ্রামেই চোখে পড়ে হতাশার ছবি। ভাঙ্গনে মুছে গিয়েছে গ্রামের তিন-চতুর্থাংশ। পাকা বাড়ি, বট গাছ, রক্ষা হয়নি
কোনও কিছুই।এক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, গঙ্গা ছিল গ্রাম থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে। ভয়ঙ্কর ভাঙ্গনে গঙ্গা চলে এসেছে বাড়ির উঠোনে একপ্রকার বাড়ির দরজাতে। বিঘার পর বিঘা জমি ও বাড়ির পর বাড়ি চলে গিয়েছে ভাঙ্গনের গ্রাসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,বালি বোঝাই বস্তার অস্থায়ী বাঁধ ও বোল্ডারে রক্ষা হয়নি নদী ভাঙ্গন। রুটি-রুজি, ভিটে-মাটি সব গ্রাস করেছে ভাঙ্গন।

